June 15, 2024, 9:35 pm
শিরোনামঃ
নাটোরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকরন সভা অনুষ্ঠিত  নাটোরে জমিসহ ৩৬৫টি ভূমিহীনদের মাঝে ঘরের চাবি হস্তান্তর দূর্গাপুরে ৭ দিন ব্যাপী ভূমি সপ্তাহের ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন নাটোরে নানা আয়োজনে ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালিত নাটোরে স্পট নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার করে দিলেন দূর্গাপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিছেন দূর্গাপুর মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি দূর্গাপুরে গণ সংবর্ধনায় উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাবো- প্রতিমন্ত্রী দারা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ- প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ  নাটোরে আড়াই লাখ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

তাঁবু রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে

Reporter Name

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববাজারে তাঁবুর (ক্যাম্পিং টেন্ট) সবচেয়ে বড় জোগানদাতা বাংলাদেশ। বিশেষ করে চট্টগ্রামভিত্তিক সিইপিজেড ও কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে বিশ্বের মোট তাঁবু সরঞ্জাম চাহিদার ৩০ শতাংশ মেটানো হয় বলে দাবি করেন এখানকার কর্মকর্তারা। তবে দেড় বছরে এই বাজারের রপ্তানিতে বিশাল ধস নেমেছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁবু রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির যে চিত্র তাতে এই অর্থবছরে তাঁবু রপ্তানি একেবারে তলানিতে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এই সেক্টরে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনায়ও পিছিয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

পরিসংখ্যানে যেভাবে কমেছে রপ্তানি

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রাপ্ত রপ্তানি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে তাঁবু ও তাঁবুর সরঞ্জাম রপ্তানি হয়েছিল ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের। কিন্তু সারা বিশ্বে যে মুহূর্তে করোনাভাইরাস কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা শুরু হয় সে সময় অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে বিশ্বের ৪৯টি দেশে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের তাঁবুর সরঞ্জাম রপ্তানি হয়।

প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৩ শতাংশের বেশি। সর্বোচ্চ ২১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের তাঁবু রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এর পরই সুইজারল্যান্ডে রপ্তানি হয় তিন কোটি ৮৯ লাখ ডলারের। প্রবৃদ্ধির ধারা দেখে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাঁবু রপ্তানিকারক কোরিয়ান মালিকানাধীন এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ও চীনের মালিকানাধীন ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেড মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট কিনে নতুন বিনিয়োগের উদ্যোগ নেয়।

কিন্তু ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি নেমে দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার বা ১২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই রপ্তানি কমেছে ১১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। আগের বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হওয়া সুইজারল্যান্ডে গত অর্থবছরে কোনো তাঁবুই রপ্তানি হয়নি।

তবে চলতি অর্থবছরের চিত্র আরো ভয়াবহ।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাঁবুর নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সব শেষ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত কোটি ২২ লাখ ডলার। কিন্তু অর্জিত হয়েছে মাত্র দুই কোটি ৭১ লাখ ডলার। অথচ আগের অর্থবছরে একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই কমেছে সাড়ে চার কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬২.৩৫ শতাংশ কম এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৩.৯০ শতাংশ কম।
রপ্তানি কমার প্রভাব নতুন বিনিয়োগে

বিশ্ববাজারে তাঁবুর প্রবৃদ্ধি ৬.৭ শতাংশ পূর্বাভাস করা হলেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক বাংলাদেশে ২০২১ ও ২০২২ অর্থবছরে তাঁবু রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের তাঁবু কম্পানিগুলো মূলত ইপিজেডকেন্দ্রিক। বেপজা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও কর্ণফুলী ইপিজেডে এই মুহূর্তে ১৪টি তাঁবু কম্পানি উৎপাদনে আছে। এ ছাড়া আরো একটি বাস্তবায়নাধীন। এইচকেডি গ্রুপ, ক্যাম্পভেলি গ্লোবাল লিমিটেড, ক্যামপেক্স (বিডি) লিমিটেড, ইউসেবিও স্পোর্টিং (বিডি) লিমিটেড, জেসিনহা আউটডোর লিমিটেড প্রভৃতি ইপিজেডের শীর্ষস্থানীয় তাঁবু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার মালিকানাধীন এইচকেডি গ্রুপ তো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তাঁবু রপ্তানিকারক।

বিশ্বে তাঁবুর চাহিদা অনুমান করে নিজেদের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় এইচকেডি গ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজার অর্থনৈতিক অঞ্চলে ‘এইচকেডি আউটডোর ইনোভেশন লিমিটেড’ নামে একটি নতুন কারখানা স্থাপন করতে ১৫টি প্লটের আবেদন করে, যেখানে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানায়। কিন্তু বর্তমান রপ্তানি পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বরাদ্দ করা প্লটগুলো ছেড়ে দিয়েছে এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল।

এ প্রসঙ্গে এইচকেডির উপমহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) সাখাওয়াত হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে আমাদের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ কোটি ডলার। সেখানে অর্জিত হয়েছে আট কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি হয়েছে ৮৫ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরে একই সময়ে হয়েছিল এক কোটি পাঁচ লাখ ডলার। বিশ্বে হঠাৎ করেই তাঁবুর চাহিদা কমেছে। অথচ করোনা মহামারির সময় আমাদের রপ্তানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।’ তাঁবুর চাহিদা কমার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না থাকলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একটা বড় কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাঁবু রপ্তানিকারক ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডও বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১২টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এইচকেডি ইন্টারন্যাশনালের মতো ক্যাম্পভ্যালি প্লট বাতিল না করলেও পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আজিমুল বাশার রাসেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল ২০২৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে আগামী বছর নতুন প্রজেক্ট উৎপাদনে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ কিছুটা ধীরে চলা নীতিতে চলছে। বেপজা প্লট বুঝিয়ে দেওয়ার পর সয়েল টেস্ট শুরু হয়েছে, পাশাপাশি বাউন্ডারির কাজও শুরু করব। আশা করছি ২০২৫ সালে কারখানাটি উৎপাদনে যাবে।’

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা

Categories